১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:১৫

শোবিজ তারকাদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া সাকিবের নিষেধাজ্ঞায়

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-র আইন লঙ্ঘন করায় দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন। তবে অভিযোগ স্বীকার করে তদন্তে সহযোগিতা করায় নিষেধাজ্ঞা ১ বছর কমেছে।সাকিবের এই নিষেধাজ্ঞায় ব্যথিত সতীর্থরা।-ডেইলি বাংলাদেশ

মঙ্গলবার রাতে শাস্তি ঘোষণা হওয়ার পরে শোবিজ অঙ্গনে অনেকেই এ নিয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন।

জনপ্রিয় অভিনেতা মোশারফ করিম নিজের সোশ্যাল সাইটে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, এটা সত্যিই অনাকাঙ্ক্ষিত। শক্ত হও এবং আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসো।

জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসারত ইমরোজ তিশা মঙ্গলবার নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লিখেন, তুমি আমাদেরকে অনেক আনন্দের মুহুর্ত উপহার দিয়েছো, গোটা দেশকে এক করেছো, একই আনন্দে। আজকেও তুমি পুরো দেশকে এক করেছো, একই বেদনায়। আমরা তোমার সঙ্গেই আছি, সাকিব আল হাসান।

সাকিবকে নিষিদ্ধ করায় মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেন, বাংলাদেশ তোমার সঙ্গেই আছে।

আরো লেখেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নাম যেহেতু বাংলাদেশ শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছে, তাই দেশকে তোমার সঙ্গেই থাকতে হবে জাতীয় স্বার্থের বেলায় ব্যক্তিগত বিরোধকে আমাদের বড় করে দেখা উচিত না। মনে রাখবেন সাকিব কোনো অপরাধ করেনি। বরং অপরাধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে সে বিষয়টি গোপন রেখে ভুল করেছে। এর জন্য তাকে বড় কোনো শাস্তি দেয়া ঠিক হবে না।

মডেল-উপস্থাপিকা মারিয়া নূর তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, সাকিব ম্যাচ ফিক্সিং করে নাই। সে প্রস্তাব পেয়েছিলো, কিন্তু ফিরিয়ে দেয়। আইসিসিকে জানায় নাই।এটাই তার ভুল।

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর তার ফেসবুকে লিখেন, সাকিব তুমি রাজার খেলা রাজার মত খেলেছো। তুমি যা খেলেছো দেশের জন্য, রাজা সমর্থক প্রজারা তোমার মত রাজার অনুগত থাকবে, কথা দিলাম।

আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী আইনের ২.৪.৪ ধারা ভঙ্গ করার কথা স্বীকার করায় তাকে সবধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দুই বছরের মধ্যে এক বছর পুরোপুরি নিষিদ্ধ, আর বাকি ১ এক বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা অর্থাৎ খেলতে পারবেন কিন্তু আবারো অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে।

যে ৩ অভিযোগ সাকিবের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে:

১. ২০১৮ সালের আইপিএল কিংবা একই বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পরও তা আইসিসিকে না জানানো।

২. ওই ত্রিদেশীয় সিরিজে জুয়াড়ির কাছ থেকে দ্বিতীয় একটি অনৈতিক প্রস্তাব পাওয়ার পরও চুপ থাকা এবং সেটা আইসিসির সংশ্লিষ্ট দফতরকে না জানানো।

৩. ২০১৮ সালের আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে কিংস এলেভেন পাঞ্চাবের মধ্যকার ম্যাচে ফিক্সারদের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পরও চুপ থাকা।

তিনটি অভিযোগ মেনে নিয়েছেন সাকিব। শাস্তি নিয়ে সাকিব আইসিসির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ফের মাঠে ফিরবেন বিশ্বসেরা ক্রিকেটার।