২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:৪৭
শিরোনাম:

মৃত মা’কে হত্যার অভিযোগ এনে ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা

শরনখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি :বার্ধক্যজনিত কারনে একশ ছুঁই ছুই জবেদা খাতুনের মৃত্যু হয়। জবেদা খুলনা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেচিকিৎসাধীন তখন এক ছেলে খলিল গাজী বাদেঅন্য সন্তানেরা সার্বক্ষণিক ছিলেন । অবশেষে জবেদা গত এপ্রিল মাসের ২৯ তারিখ মৃত্যুবরণ করেন।কিন্তু দাফনের ২২ দিনের মাথায় খলিল গাজী তার মেজ ভাইয়ের পরিবারকে ফাঁসাতে মৃত মাকে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।

এমনটাই দাবি ওই পরিবারসহ এলাকাবাসীর। এলাকাবাসীর কাছে খলিল ‘মামলাবাজ’ হিসেবে পরিচিত। পাড়া-প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে ামথ্যা ও হয়রানূমূলক মামলা দায়ের করা এবং পরবর্তীতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আপোষ মিমাংসা করাই তার নেশা ও পেশা। এলাকা সূত্রে জানাযায়, এপর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক মামলা এলাকার বিভিন্ন মানুষের বিরুদ্ধে তিনি কিংবা তার বাহিনীর লোক দ্বারা করিয়েছেন। একই ভাবে সর্বশেষ আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তার ভাই লতিফ গাজীসহ
অন্যান্য ভাই-বোনের কাছে শর্ত ছুড়ে দিয়েছেন তাদের বাবার রেখে যাওয়া ভিটে- বাড়িটি সবাই তার নামে লিখেদিলেই তুলে নিবেন। শরনখোলা থানার এক কর্মকর্তার ইন্ধনে তিনি এই মামলা করেছেন বলে মামলায় অভিযুক্ত পরিবার, স্বজন ও
এলাকাবাসীর দাবী।

বাগেরহাট শরণখোলার মৃতঃ সুরত আলী গাজীর স্ত্রী জবেদা খাতুনকে হাসপাতালে ভর্তি, চিকিৎসকের পরামর্শপত্র ও মৃত্যুর পর হাসপাতালের ছাড়পত্র থেকে জানা যায়, এ বছরের এপ্রিলের ২৬ তারিখ বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে অসুস্থ অবস্থায় খুলনা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তাকে পেয়িং বেডে ভর্তি করা হয়। পরে ডাক্তার বুকের এক্সরে, সি.বি.সি, আর.বি.সি, সলিড ক্রিটিনিন ও ইলেক্ট্রলাইটসহ ৬টি টেস্ট করার পরামর্শ দেন। পরের দিন ওই টেস্টের পর জবেদাকে আবারও
সি.বি.সি ও সলিড ক্রিটিনিনসহ চারটি টেস্ট করানো হয়। টেস্টের রিপোর্টে বার্ধক্য কারনে হাপাঁনিসহ অনেক রোগের আলামত পাওয়া যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার বিভিন্ন রোগের ওষুধ দেন। ে এরপর গত ২৯ তারিখে জবেদা খাতুনের মৃত্যু হলে হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডাঃ অনীল রায় তার স্বাক্ষরিত মৃত্যুসনদে ‘বার্ধক্যজনিত ও স্বাভাবিক রোগে মৃত্যু’ বলেই উল্লেখ করে সনদপত্র দিয়ে মৃত জবেদাকে তার সন্তানদের হাতে দিয়ে দেয়া হয়।

পরেরদিন জানাজার পর বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর ২২ দিন পরে মৃত জবেদার ছেলে খলিল গাজী তার আপন মেজ ভাই লতিফ গাজী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিষপ্রয়োগে হত্যার মামলা করেন। এলাকাবাসী ও লতিফ গাজীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, খলিল গাজী সিডরের পর আর্থিক অনটনে পড়লে লতিফ ও তার বড় ভাই হামিদ গাজী এবং সেজো ভাই ইউসুফ গাজী তাদের জমিতে বসবাসের সুযোগ করে দেয়। বর্তমানে খলিলের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এবং বাগেরহাটে একজন আইনজীবীর অধীনে মোহরার হিসেবে কর্মরত থাকার সুবাদে তিনি ধরাকে সরাজ্ঞান মনে করছেন।

এদিকে নিজেদের প্রয়োজনে খলিলের ভাইয়েরা তাদের জমি ছাড়তে বললে এই মিথ্যে মামলার ফাঁদ পাতেন তিনি। গ্রামবাসী জানায়, বাদী খলিল গাজী এলাকায় মামলার ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি ক্ষমতাসীন দলের উপর মহলের সঙ্গে হাত আছে বলে ভয়
সৃষ্টি করেন এবং শরণখোলা থানার উপ-পরিদর্শএসআই মফিজুর রহমানের (ওসি তদন্ত) যোগসাজসে এলাকায় ইয়াবা ও মাদকের ব্যবসা করেন। এপর্যন্ত ১৫ জনের বেশি লোককে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে টাকা দাবি করেছেন। টাকা দিতে রাজী
না হওয়ায় জেলও খাটিয়েছেন। এর পর থেকে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান বলেই তাদের অভিযোগ।

জবেদার লন্ডন প্রবাসী ছেলে ও খলিলের আরেক ভাই মিজানুর রহমান জানান,তিনি দেশে আসলে চোখ উপড়ে ফেলবেন বলেমোবাইল ফোনে হুমকি প্রদান করেন। পরে মিজান এবছরের ২৮ এপ্রিল ও ২৭ আগষ্ট বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার বরাবর
বিস্তারিত জানিয়ে দুটি অভিযোগ করেন। আর অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেরে খলিলের ইন্ধনে ক্ষিপ্ত হয়েছেন এস.আই মফিজুর। সর্বশেষ গত বুধবার লন্ডন প্রবাসী মিজান সহ অন্যান্য ভাই-বোনদেন পুরানো বাড়িটি ফাঁকা পেয়ে প্রায় শতাধিক ওষধি গাছসহ বিভিন্ন প্রাতির গাছ রাতারাতি কেটে বিক্রি করেদেন খলিল। সকালে বাড়ির মালিকরা দেখতে পেয়ে শরনখোলা থানায় জানালে পুলিশ কাটা গাছগুলো আটক করলেও পুলিশ মামলা নেননি।

এ বিষয়ে শরণখোলা থানার উপ-পরিদর্শএসআই মফিজুর রহমানের (ওসি তদন্ত) কাছে জানতে চেয়ে ফোন করা হলে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। রায়েন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন খলিল প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে, আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বিষয়টি গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে সমাধানের। তবে খলিল গাজী সম্পর্কে গ্রামের অনেকেই আমার কাছে অভিযোগ করেছেন। আর তাই সকল বিষয়ই খতিয়ে দেখছি। খলিল গাজীর মুঠোফোনেপাওয়া গেলেও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার বক্তব্য জানতে
চাইলেতাৎক্ষনিক ফোনটি কেটে দেন বারবার রিং দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি ।