২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:৪৫
শিরোনাম:

সুন্দরবনে রাস উৎসবকে ঘিরে তৎপর হরিণ শিকারী চক্র, ফাঁদসহ আটক ৬০ শিকারী

নইন আবু নাঈম, প্রতিনিধি শরণখোলা ঃ বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের সাগর পাড়ে দুবলার চরে ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ৩ শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবকে ঘিরে তৎপর হয়ে উঠেছে হরিণ শিকারী চক্র। ৩ দিরব্যাপী রাস উৎসবে দেশি- বিদেশি পূণ্যার্থী ও পর্যটকদের আড়ালে সুন্দরবনে ঢুকে পড়ে চোরা হরিণ শিকারী চত্র। এভাবে সুন্দরবনে যাবার পথে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) ভোরে চাঁদপাই রেঞ্জের জয়মনি এলাকা থেকে ৩টি ট্রলার ও হরিণ শিকারের ফাঁদসহ ৬০ জন চোরা শিকারী আটক হয়েছে বনরক্ষীদের হাতে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে হরিণ শিকারের ফাঁদ, দা, কুড়াল ও চুলাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতদের এসব চোরা মিকারীদের বাড়ী বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। এবার রাস উৎসবকে ঘিরে
সুন্দরবনের বাঘ-হরিণসহ বন্যপ্রাণিসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পূণ্যার্থী ও পর্যটকদের যাতায়াতে ৮টি রুট
নির্ধারণসহ চার দফা পূর্ব সতর্কতা জারি করেছে বন বিভাগ।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান বলেন, আগামী ১০ নভেম্বর থেকে ১২
নভেম্বর পর্যন্ত সুন্দরবনের দুবলারচরের আলোরকোলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাস উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এই সব
চোরা শিকারী আগামী ১০ নভেম্বর দুবলার আলোরকোলে শুরু হতে যাওয়া রাস মেলা উপলক্ষে হরিণ শিকারের
উদ্দেশ্যে এই দলটি সুন্দরবনে প্রবেশ করে। আটক ৬০জন চোরা শিকারীদের কাছে সুন্দরবনে প্রবেশের কোন
পাশ পারমিট নেই। আগামী ১০ নভেম্বর ভোর থেকে সুন্দরবনের দুবলারচরে যাওয়া জন্য পূর্ণার্থী ও ভক্তদের
সুন্দরবনে ঢোকার অনুমতি দেবে বন বিভাগ। রাসমেলা উপলক্ষ্যে সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের আনাগনা বেড়ে
যায়। তাই শিকারীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই সুন্দরবন যাওয়ার চেষ্টা করে। মঙ্গলবার ভোরে এমনই একটি
সংঘবদ্ধ হরিণ শিকারীর দল ৩টি ট্রলারসহ চাঁদপাই রেঞ্জের জয়মনি এলাকায় অভিযান চালায় বনরক্ষীরা। এসময়
৩টি ট্রলার, হরিণ শিকারে ব্যবহার করা ফাঁদ, দা,কুড়ালসহ আটক করা হয়। আটকদের সুন্দরবনের চাঁদপাই
রেঞ্জে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

ডিএফও আরও বলেন, এবারের রাস মেলা উপলক্ষ্যে সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুণ্যার্থী ও
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং বন ও বন্যপ্রাণি রক্ষায় বন বিভাগের সাথে নৌবাহিনী, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড,
পুলিশের পাশাপাশি বনরক্ষীরাও নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া, কন্ট্রোল রুমে স্বার্বক্ষণিক একজন নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। এবার রাস উৎসবের নিয়মাবলীতে একটু ভিন্নতা আনা হয়েছে। অন্যান্য
বছর গুলোতে পুণ্যার্থীরা রাতের বেলায় রওনা হতো। কিন্তু এবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে ১০ নভেম্বর সকাল
৬টা থেকেই তারা যাত্রা শুরু করবে। এবার রাস মেলাকে ঘিরে হরিণ ও অন্যান্য বন্য প্রাণি শিকার রোধে বন
বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসন সজাগ দৃষ্টি রাখবে। যে কোন মূল্যে চোরা শিকারীদের
অপতৎপরতা রুখে দেয়া হবে।