১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:৩৬

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা থেকেই আসছে যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব

দীর্ঘ ৭ বছর পর আওয়ামী যুবলীগের ৭তম কংগ্রেস আগামী ২৩ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।ওইদিনই ঘোষণা হবে যুবলীগের নতুন দুই কাণ্ডারির নাম। সঙ্গত কারণে সংগঠনটির নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে আলোচনা এখন তুঙ্গে। কারণ, ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শীর্ষ নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগে যুবলীগে দেখা দিয়েছে ইমেজ সঙ্কট। এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে ও সংগঠনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড নতুন নেতৃত্ব খুঁজছে। এ নেতৃত্বে যারা প্রতিশ্রুতিশীল, সৎ, শিক্ষিত, দক্ষ, পরিশ্রমী, মেধাবী ও ত্যাগি এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদেরকেই প্রাধান্য দেয়া হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড মনে করছে, সংগঠনটির বাইরে গিয়ে নেতৃত্ব সাজালে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই সংগঠনের ভেতর থেকেই পদোন্নতি দিয়ে সাজানো হবে নেতৃত্ব।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড যুবলীগের জন্য এমন নেতৃত্ব খুঁজছে, যারা ভাবমূর্তি সঙ্কটে পড়া সংগঠনের সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে।এজন্য পারিবারিক ও রাজনৈতিক ভালো অবস্থান ও ক্লিন ইমেজ রয়েছে, এমন ব্যক্তিত্ব বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হসিনা নিজেই বিভিন্ন মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তবে ৫৫ বছরের বয়সের সীমারেখা থাকায় যুবলীগের নেতৃত্ব যাচ্ছে অপেক্ষাকৃত তরুণদের হাতে।একই সঙ্গে ছাত্রলীগের রাজনীতি করছেন কি না-সেটিও দেখা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আওয়ামী লীগের দুর্দিনের যেসব নেতা-কর্মী মাঠে ছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই যুবলীগে নতুন নেতৃত্ব আসবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনি যেভাবে চাইবেন, সেভাবে নতুন সাজানো হবে। সংগঠনে যারা দীর্ঘদিন সময় দিয়েছেন, তাদের প্রাধান্য দেয়া হবে।

যুবলীগের শীর্ষ দুই পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ ফজলে শামস পরশ, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ সেলিমের ছেলে এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম ও আরেক ছেলে শেখ ফজলে নাঈম, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, যুবলীগের বর্তমান কমিটির পেসিডিয়াম সদস্য ফারুক হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ বদিউল আলম, ফজলুল হক আতিক, ফারুক হাসান তুহিন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারি, সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না।

যুবলীগের ৭ম কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম বলেন, এবারের ৭ম কংগ্রেসে মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষ। মঞ্চটি হচ্ছে পদ্মাসেতুর আদলে। এছাড়া কংগ্রেসে ৭৭টি সাংগঠনিক ইউনিট থেকে ৩ হাজার কাউন্সিলর এবং প্রায় ২৫ হাজার ডেলিগেট আসবে। একই সঙ্গে ৮টি বিদেশি ইউনিটের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটররা উপস্থিত থাকবে। কংগ্রেসে গঠনতন্ত্রে বয়সের ৫৫ বছরের সীমারেখার বিষয়টি যুক্ত হবে।

যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি বলেন, যুবলীগে দরকার সঠিক ও যোগ্য নেতৃত্ব। এই সংগঠনেই অনেক ভালো লোক রয়েছেন। তাদের অনেক ত্যাগ, তিতিক্ষা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেভাবেই নতুন নেতৃত্ব সাজাবেন। যুবলীগে ৫৫বছর বয়সসীমা বেধে দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাই।

যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক আতিক বলেন, আমরা চাই যুবলীগে ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে, সেই জায়গা থেকে যারা সৎ, শিক্ষিত ও ত্যাগি নেতা তাদেরই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা উচিত। একই সঙ্গে যাদের আওয়ামী পরিবারের লোক ও এলাকায় অবস্থান রয়েছে, তাদের হাতেই সংগঠনের পতাকা তুলে দেয়া উচিত।

যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু বলেন, কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে যুবলীগে যাদের ক্লিন ইমেজ, সৎ, ত্যাগি ও প্রতিশ্রুতিশীল তাদের দিয়েই নতুন নেতৃত্ব সাজানো উচিত। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে নতুন নেতৃত্ব সাজাবেন, তার সঙ্গে আমরা থাকবো। আগেও রাজপথে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো।