২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:৩৮
শিরোনাম:

যৌন সচেতনায় স্কুল থেকে মাদরাসা এগিয়ে (ভিডিও)

জেনারেশন ব্রেকথ্রু’ প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলেই ছেলে-মেয়েরা শিখছে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা। পাঁচ বছর মেয়াদী সরকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা এই চার জেলার ২৫০টি স্কুল ও ৫০টি মাদরাসায় এই শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের নারী-পুরুষ সমতার ধারণা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে শেখাচ্ছেন শিক্ষকেরা।

২০১৪ সালে শুরু হওয়া পাঁচ বছর মেয়াদী এই প্রকল্প শেষে সরকার দ্বিতীয় মেয়াদী আবারও প্রকল্প শুরুর কথা ভাবছে। একইসঙ্গে এই শিক্ষা মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে বাধ্যতামূলক করারও চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

এই প্রকল্পটি প্রথমে স্কুলে বাস্তবায়ন সম্ভব হলেও মাদরাসা পর্যায়ে প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়বে বলে মনে করা হয়েছিল।
কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষায় মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকরা অনেক আগে থেকেই বেশি সচেতন।

জেনারেশন ব্রেকথ্রু প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শুরুতে মনে হয়েছিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বিষয়টি গ্রহণ করবে না।কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল তারা অনেক বেশি সচেতন।

এ বিষয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মামুনুল হক বলেন, একটি ছেলে বা মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হলে তার শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কি কি কাজ করতে হবে সে বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে উল্লেখ আছে। আর সে বিষয়গুলোই শত শত বছর ধরে ওলামায়ে কেরাম পাঠদান করে যাচ্ছেন।যেহেতু মাদসায় কুরআন ও হাদিসের আলোকে জীবনযাপনের নির্দেশ ও পড়ালেখা করানো হয় তাই এখানকার ছাত্ররা সেই শত বছর ধরেই এসব বিষয়ে সচেতন।

তিনি বলেন, তবে পাশ্চাত্যের যে যৌন সচেতনতা ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষার কথা বলা হচ্ছে তার সাথে এর কোনও মিল নেই। পাশ্চাত্যের যৌন সচেতনতামূলক শিক্ষায় বলা হল কিভাবে অবাধ মেলামেশার পরও গর্ভধারণ ও এইডস থেকে বাঁচা যায়। অর্থ্যাৎ নিরাপদ যৌন সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হয়।কিন্তু ইসলাম এই বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে। ইসলামী জীবনযাপন করলে মরণব্যাধী এইডস বা অনিরাপদ গর্ভধারণের কোনও সুযোগই নেই।কারণ ইসলাম নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।পাশ্চাত্যের অনুকরণে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে আমরা তার বিরোধিতা করছি।

তবে স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভালো চোখেই দেখছে।

অ্যামেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের মিডিয়া অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশনের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী ফারজানা বলেন, যৌন শিক্ষা হচ্ছে যা থেকে যৌনতা সম্পর্কে জানা যায়৷এ শিক্ষা প্রত্যেকের জীবনে প্রয়োজন৷ বাচ্চাদের পরিবার এবং শিক্ষকরা এটা শিখাতে পারেন৷ এছাড়া যৌনতা সম্পর্কে তাদের জানার উৎস হতে পারে পরিবার অথবা বন্ধু-বান্ধব।তাছাড়া ইন্টারনেট থেকেও যৌনতা সম্পর্কে জানা যায়।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস কমিউনিকেশন বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী নাফিউল৷ তার মতে, যৌন শিক্ষা জীবনের জৈবিক চাহিদা সম্পর্কে জানা এবং যৌনতার সঠিক প্রয়োগ ও সতর্কতাকে বোঝায়৷ তিনি শিক্ষকদের কাছ থেকে এ বিষয়ে কিছু শেখেননি৷ তবে এই শিক্ষাটা খুবই জরুরি বলে মনে করেন তিনি৷