২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:০৫
শিরোনাম:

জনগণের জন্য রাস্তায় নামা অসাংবিধানিক নয় : নোমান

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আলোচনা সভা শেষে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ডভাবে দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ হাইকোর্টের মাজার গেটের সামনের সড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। খালেদা জিয়ার মুক্তি, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। এসময় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শান্তিপূর্ণ অবস্থানে পুলিশী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, জনগণের জন্য রাস্তায় নামা সাংবিধানিক অধিকার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রজন্ম দলের নেতাকর্মীরা হাইকোর্টের সামনে অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই মুক্তি চাই স্লোগান দিতে থাকে। হাইকোর্টের ফটকে অবস্থান নিতে গিয়ে অনেক নেতা-কর্মী রাস্তায় শুয়ে পড়েন। এ সময় হাইকোর্ট এলাকাসহ আশপাশের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কে বিক্ষোভ করায় পুলিশ এসে বাধা দেয়। পুলিশ প্রথমে তাদের সরে যেতে বলে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বাঁশি ফুঁ দিয়ে তাদের ধাওয়া দেয়। পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় সড়কের বেশ কিছু গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়লে ছত্রভঙ্গ হয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ফের প্রেসক্লাবের দিকে চলে যায়। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

নোমান বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নামাটা অসাংবিধানিক ও আইনবিরোধী নয়। জনগণ রাষ্ট্র ক্ষমতার মালিক হওয়া সত্ত্বেও সব কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভোটের অধিকার নেই, গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। দেশে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি। পেঁয়াজ, চাল, তেল জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের বিরোধীদলের আন্দোলন করার অধিকার আছে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আন্দোলন করার অধিকার আমাদের আছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দিন। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি হয়েছে তা নিম্নগামী করুন এবং দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়েছে আর তার জন্য পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনঃনির্বাচন দিন।

সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দীন আহমেদ, শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ অ্যাডভোকেট এহসানুল হুদা, ছাত্রদল নেতা মাহমুদুর রহমান বাপ্পী, মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।