২৪শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:১৯

হাঁটু ব্যথা কমাতে ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন

সাধারণত বয়স বাড়লে হাঁটুর ব্যথা বেশি দেখা দেয়। তবে অনেকের আবার কম বয়সেও এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
হাঁটু ব্যথা কমাতে ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন বিশেষ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটর, ল্যাপটপে মুখ গুঁজে কাজ করায় বাড়ছে পিঠ, কোমর, হাঁটুতে ব্যথা।

মূলত তিনটি কারণে ব্যথা বেশি হয়ে থাকে। আঘাতজনিত, ক্ষয়জনিত এবং বাতজনিত। আঘাতজনিত ব্যথা খেলাধুলার ইনজুরি বা কোনো দুর্ঘটনায় লিগামেন্টের আঘাত থেকে হাঁটু বা জয়েন্টে ব্যথা হতে থাকে। আবার হাঁটুর জয়েন্টের কাছে কারটিলিস নামের যে নরম হাড় থাকে, সেখানে ক্ষয় দেখা দিলে হাঁটুর ব্যথা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটু ব্যথা হলেই নিয়মিত ব্যথার ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। এতে আরও নানা রকম শারীরিক সমস্যা বাড়বে। সেক্ষেত্রে হাঁটু ব্যথা কমাতে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চলতে পারেন।

যেমন ধরা যাক
১. প্রথমেই কোনও চোট পেয়ে ব্যথা বেড়েছে, নাকি আর্থাইটিস তা বোঝার চেষ্টা করুন। যে কোনও ধরনের ব্যথাই অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় নিজে যত্ন নিলে।

২. যদি বেকায়দায় লেগে গিয়ে হাঁটু ব্যথা হয়, তবে সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো বিশ্রাম। কয়েকটি দিন কম নড়াচড়া করলেই ব্যথা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। বিশ্রামের সময়ে পা একটু উঁচু জায়গায় রাখুন। তাতে কাজ আরও দ্রুত হবে।

৩. কোথাও ধাক্কা খেয়ে বা পড়ে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা পেলে বারবার বরফ দিন। সঙ্গে সেই হাঁটুটি শক্ত করে ক্রেপ ব্যান্ডেজ দিয়ে বেঁধে রাখুন।

৪. সব সময়ে চোট লেগেই ব্যথা হবে, এমন নয়। হাঁটু ব্যথার একটি বড় কারণ হল ওজন। শরীরের ভার যত বাড়বে, হাঁটুর ওপর তত চাপ পড়বে। তার থেকে ব্যথাও বেশি হবে। এ কারণে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।

৫. হাঁটুতে এক বার ব্যথা হলে সহজে কমতে চায় না। তাই কিছু ব্যায়ামেরও সাহায্য নিন। তাতে ব্যথার এলাকাটি নমনীয় থাকবে। তা হলে ব্যথা কম সময় লাগবে। ‌হাল্কা হাঁটাহাঁটি, সাইকেল চালানো কিংবা যোগব্যায়াম— যে কোনোটি‌ই করা যেতে পারে নিয়ম মেনে। তবে চোট লেগে থাকলে এ ধরনের ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

. হাঁটুতে ব্যথার কারণ যাই হোক, ঠান্ডা-গরম সেঁক দিলে আরাম পাবেন। তবে কখনোই সরাসরি বরফ দেওয়া ঠিক নয়। হয় কোনও আইস প্যাক ব্যবহার করুন কিংবা কোনও কাপড়ে বরফ বেঁধে নেবেন। ঠান্ডা সেঁক দেওয়ার পরে হাল্কা করে কোনও ব্যথার মলম লাগিয়ে রাখুন। আরাম হবে।

৭. হাঁটু ব্যথার হলে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করলে বেশ অনেক ক্ষণের জন্য ব্যথা কমবে। এতে শরীরও ঝরঝরে থাকবে।