৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:৩৯

গজারিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বেহাল দশা-

গজারিয়া প্রতিনিধি:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অধীনস্থ শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় তৃণমূল পর্যায় বাস্তবায়নের রূপরেখায় পাঠ দানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে জাতিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত আছে সরকারের।
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা হতে মাঠ পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি নির্দেশনা অনেকটাই চোর পুলিশের মতন পালন করা হচ্ছে। এই নির্দেশনা শুধু কাগজে-কলমেই আছে- বাস্তবে নেই।
বিদ্যালয়ের সময়সূচি সকাল ৯ ঘটিকা হইতে বিকাল ৪ ঘটিকা পর্যন্ত লিখা থাকলেও বাস্তবে তার মিল নেই।
সরজমিনে উপস্থিত হয়ে অপেক্ষার পর দেখা যায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা ১০: ৩০ হতে ১১ টার মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রবেশ করে।
উল্লেখ্য যে গজারিয়া উপজেলায় ৮৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় যেমন ৮৭ নং রেফায়েতুল্লাহ খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮৪ নং জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৮ নং টান বলাকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩১ নংচার্ষীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,৪৯ নং কালিপুরা এন এস কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,৭৭ নং চর রমজান বেগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৭ নং শিমুলিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,৫৪ নং মল্লিকের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় যে বিদ্যালয়ের সময়সূচী ৯টা নির্দেশনা থাকলেও তারা জানায় সাড়ে নয়টায় থেকে দশটায় ক্লাস শুরু করি ।
কর্মরত অনেক শিক্ষকই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় না। আবার অনেক শিক্ষকরা শিক্ষকদের উপস্থিতি ভাগ করে সপ্তাহের ক্লাসগুলি নেন।
শিক্ষকগণ বিদ্যালয়ে দেরি করে পৌঁছে শিক্ষক হাজিরা খাতায় দশটায় পৌঁছালে উপস্থিতি ৯ ঘটিকা লিখে স্বাক্ষর করে। গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে হাজিরা খাতায় এই অনিয়মের সময় লিখলে প্রশ্ন করলে বলে আমরা এভাবেই লিখি।
গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিতির সময় প্রশ্ন করলে উ সময়টুকু লিখে স্বাক্ষর করে। তা প্রমাণ আছে।
উল্লেখিত বিদ্যালয় গুলিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সরকারি অফিসারদের দৃষ্টি/নজরদারি যথাযথ নেই বলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল অবস্থার দিকে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসারদের সাথে গোপন আতাত করে অনুপস্থিত সহ অনৈতিক সুবিধা দিয়ে থাকে বলে প্রমাণিত হয়।
বিদ্যালয়ে পাঠদানের সময় অধিকাংশ শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসে এসে বিভিন্ন প্রকার তকদির ও বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
তাই উপজেলা প্রশাসনে আগত সেবা প্রত্যাশীরা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কামড়ায় এত শিক্ষকদের পদচারণায় মন্তব্য করে যে সারাদিন তারা শিক্ষা অফিসে থাকে স্কুলে ক্লাস করে কখন।
কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় যে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। প্রক্সি শিক্ষকদের কাছ থেকে জানা যায় প্রধান শিক্ষক তাদেরকে এ ক্লাস নেওয়ার জন্য নিয়োগ করেছে।
এই প্রক্সি শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয় বিদ্যালয়ের উৎস কৃত স্লিপের টাকা, রুটিন মেন্টেন্স ও ক্ষুদ্র মেরামতের ফান্ড হতে পরিশোধ করার জন্য এমনটাই নির্দেশনা ও বিদ্যালয়ের পরিদর্শন বহিতে লিখে স্বাক্ষর করেন সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার হাফিজা বেগম।
এই অভিযুক্ত বিদ্যালয়গুলির ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি প্রতি ক্লাসে দুই থেকে চার জন সরজমিনে গিয়ে পাওয়া যায়। তাই ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতির বিষয়ে পরিদর্শন বহিতে কোন প্রকার মন্তব্য উল্লেখ করেননি, উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসাররা। কেননা নীতিমালায় যে পরিমাণ ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি ও উপস্থিতির বিষয়ে যথাযথভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা অর্থের বিনিময়ে আড়াল করে যাচ্ছে শিক্ষা অফিসাররা।
বিদ্যালয় গুলিতে সংস্কার, সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পশু পাখির ছবি, বর্ণ, গুণীদের  বিভিন্ন বাণী, রং দিয়ে কালার পেন্টিন এর কাজ গুলি স্কুল কর্তৃপক্ষকে করতে না দিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসাররা নিজেদের পছন্দ মত লোক দিক করিয়ে নেয়।  তাই বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত অর্থ অপচয় হয় বলে অবগত করে বিদ্যালয়ের কর্মরত প্রধান শিক্ষকগণ।
পরিদর্শন বহিতে সহকারি শিক্ষা অফিসার গন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত নিয়ম নীতি- বিদ্যালয় এর শিক্ষকরা মানছে না এমনটাই স্বাক্ষর বহিতে লিপিবদ্ধ করে। এবং বিদ্যালয়ে উৎস/ প্রাপ্ত অর্থ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করলেও কোন প্রকার রেজিস্টার ও ভাউচার দেখতে পারে নাই শিক্ষা অফিসার দের।
কয়েকটি বিদ্যালয় এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের অব্যবহৃত ভাঙ্গা আসবাবপত্র, লোহা ,এঙ্গেল, কাঠ শিক্ষা অফিসারের অনুমতি না নিয়ে বিক্রি করে দেয়।
রাষ্ট্রীয় সম্পদ, পরিত্যক্ত ভবন , বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে টেন্ডার এর মাধ্যমে বিক্রয় করার কথা থাকলেও মানছে না যথাযথ কর্তৃপক্ষ ।
তালিকা অনুযায়ী পরিত্যক্ত ভবন নিলাম হওয়ার পরে নিলামের অর্থ চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে/ ব্যাংকে জমা হওয়ার কথা থাকলেও অনেকাংশ গায়েব হয়ে যায়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়মের সংবাদ  বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরেও যথাযথ কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার ব্যবস্থা নেননি।
আবার একই বিদ্যালয়ে  পরিবারের দুই জন শিক্ষকতা করায় অন্যজন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রেখে শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসারদের গোপন আঁতাতের মাধ্যমে কর্মরত দপ্তর কে ক্ষতি করে  অন্য দপ্তরে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে ব্যস্ত থাকে।
প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিয়ম তান্ত্রিক বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মমতাজ বেগমকে প্রশ্ন করলে জানায় সব বিদ্যালয় দেখাতো আমার পক্ষে একা সম্ভব নয়। আমার সহকারি অফিসাররা বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে। এবং যেসব বিদ্যালয় গুলিতে অনিয়ম আছে, সে বিদ্যালয় ও কর্মরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে  যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার (ডিপিও) মাসুদ ভুইয়া জানান প্রাইমারি বিদ্যালয়ের নির্দেশিত সরকারি নীতিমালা কোন প্রকারে কোন শিক্ষক অগ্রাহ্য করিতে পারেনা। তবে যেসব বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষকদের অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিব।