২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:২২
শিরোনাম:

পাঁচ দিনের রিমান্ডে চাঁদ, মামলা ডিবিতে

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘হত্যার হুমকি’ দেওয়ায় গ্রেফতার হওয়া বিএনপি নেতা আবু সাঈদ চাঁদকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে আবু সাঈদ চাঁদকে রাজশাহীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এ হাজির করে পুঠিয়া থানা পুলিশ।

গত ২১ মে রাতে পুঠিয়া থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখানোসহ চাঁদকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুঠিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন আলী।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে তার আবেদনে বলেন, আবু সাঈদ চাঁদ একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী নেতা। অতীতে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া এবং নাশকতাসহ অর্ধ শতাধিক মামলা রয়েছে তার নামে। গত ১৯ মে বিকালে একটি সমাবেশে যে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এ ধরনের হুমকির ঘটনা বিএনপি নেতা চাঁদের ব্যক্তিগত নাকি, দলীয় সিদ্ধান্ত তা জানতে তাকে ব্যাপকমাত্রায় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে তাকে রিমান্ডে নেওয়া দরকার। আদালতে পেশকৃত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের কারণে চাঁদের পক্ষে এদিন জামিনের আবেদন করতে পারেননি তার আইনজীবীরা।

এদিকে শুনানিতে রিমান্ডের বিরোধিতা করে বক্তব্য তুলে ধরেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট পারভেজ তৌফিক জাহেদিসহ অর্ধশত আইনজীবী।

বিএনপির আইনজীবীরা আদালতে বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিএনপি নেতা চাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে রিমান্ডের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পিপি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন। জেলা পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক রবিউল ইসলামও রিমান্ডের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন আদালতে। দুই পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক বিএনপি নেতা চাঁদকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে রাজশাহী জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুঠিয়া থানায় চাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সন্ত্রাস দমন আইনের মামলাটি বৃহস্পতিবার দুপুরে পুঠিয়া থানা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক আতিকুর রেজা সরকারকে মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে।

জেলা ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামি আবু সাঈদ চাঁদকে ডিবি হেফাজতে নিয়েছেন। তাকে পুঠিয়া থানায় পাঠানো হবে না।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার ভেড়িপাড়া মোড় থেকে চাঁদকে গ্রেফতার করা হয়। রাজশাহী জেলা ও মহানগর পুলিশ (আরএমপি) যৌথভাবে সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে একটি প্রাইভেটকার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল বাতেন জানান, বিভিন্ন অপরাধে চাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ২০ থেকে ২৫টি মামলা চলমান আছে। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির ঘটনায় রাজশাহী জেলা ও মহানগরের থানাগুলোতে আরও ছয় থেকে সাতটি মামলা হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে আরও বেশকিছু মামলা হয়েছে। সবকিছুই আইনি প্রক্রিয়ায় হচ্ছে। চাঁদকে গ্রেফতারের ফলে জনমনে স্বস্তি এসেছে।

ডিআইজি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, চাঁদকে রিমান্ডে আনা হবে কিনা তা মামলার তদন্ত কর্মকর্তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন। এছাড়া দেশের অন্য থানাগুলোতে তার বিরুদ্ধে আরও যেসব মামলা হয়েছে সেগুলোতেও তাকে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়েও আইনগত পদক্ষেপ নেবেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে রাজশাহীর পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনসহ অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আবু সাঈদ চাঁদ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং রাজশাহী জেলা কমিটির আহ্বায়ক। তিনি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানও। গত ১৯ মে বিকালে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে চাঁদ বলেন, আর ২৭ দফা ১০ দফার মধ্যে আমরা নাই। এক দফা- শেখ হাসিনাকে কবরস্থানে পাঠাতে হবে। শেখ হাসিনাকে কবরস্থানে পাঠাতে হবে। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করার জন্য যা যা করার দরকার আমরা করব।

তার এই বক্তব্যের ভিডিও একদিন পর ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। রাজশাহী জেলা ও মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তার নামে সন্ত্রাসবিরোধী ও মানহানি আইনে তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১০টি মামলা হয়েছে।

গত ২১ মে রাতে পুঠিয়া থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে প্রথম মামলা দায়েরের পর থেকেই আবু সাঈদ চাঁদ আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশ তাকে গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশ চাঁদকে ধরতে তার মেয়েসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে আটক করেন; যার মধ্যে একটি শিশুও ছিল বলে বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তাদের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত বলা হয়নি।