৫ই মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:১৪
শিরোনাম:

ছোট ভাইয়ের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় বড় ভাইয়ের দুই গরু বিক্রি করে দিলো জিম্মাদার ও এনজিও কর্মী

গজারিয়া ( মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ছোট ভাই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় জোরপূর্বক বড় ভাইয়ের গোয়াল ঘর থেকে দুটি গরু বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এনজিও কর্মকর্তা এবং ঋণ জিম্মাদারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ওই ঋণ গ্রহীতার নাম মমিন মিয়া। তিনি গজারিয়া উপজেলার পুরান বাউশিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দরিদ্র কৃষক।
ভুক্তভোগী মমিন মিয়া বলেন, তার মা,এক বোন এবং এক মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী। অভাবের সংসারে গত প্রায় এক বছর আগে প্রতিবেশী আব্দুল আউয়ালের জিম্মায় ব্রাক এনজিও থেকে ২ লক্ষ টাকা কৃষি ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। ১২ মাসের কিস্তিতে তাকে সুদসহ ২ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। কৃষিকাজ করে ৮৫ হাজার টাকার কিস্তি তিনি পরিশোধ করেছেন। তবে সম্প্রতি টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এনজিও কর্মীরা তার ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। কখনো তার বিরুদ্ধে মামলা করার ভয় দেখানো হত, কখনো আবার বাড়ি ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে টাকা আদায় করার হুমকি দেওয়া হতো। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে এনজিও কর্মকর্তার পরামর্শে ঋণের জিম্মাদার আব্দুল আউয়াল পিতা,আঃ হামিদ সরকার, তার বড়ভাই আল আমিনের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন আব্দুল আউয়াল গরুগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন তবে তিনি কিস্তির টাকা পরিশোধ করেননি। গরু দুটির আনুমানিক বাজার মূল্য ২ লক্ষ টাকারও বেশি। দুটি গরুর মধ্যে একটি গরু প্রতিদিন ৪/৫ লিটার দুধ দিতো যা বাজারে বিক্রি করে তাদের সংসার চলতো। গুরুগুলো নিয়ে যাওয়ায় তাদের এখন না খেয়ে মরার উপক্রম।
বিষয়টি সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে জিম্মাদার আব্দুল আউয়ালের বাড়িতে যাওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে খবর নিয়ে জানা গেছে আব্দুল আউয়াল গরুগুলো ইমামপু্র ইউনিয়নের জষ্ঠিতলা গ্রামের জব্বার ব্যাপারীর ছেলে সালাউদ্দিন বেপারীর  কাছে বিক্রি করেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে সালাউদ্দিন বেপারীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি নগদ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে গুরুগুলো কিনে এনেছি। যিনি বিক্রি করেছেন তিনি গরুগুলো তার বলে দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে এর চেয়ে বেশি আমি কিছুই জানিনা।
বিষয়টি সম্পর্কে ব্র্যাক এনজিওর বাউশিয়া শাখার ব্যবস্থাপক সোহেল মিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ফিল্ড অফিসার অশোক কুমারের মাধ্যমে মমিন মিয়াকে ২ লক্ষ টাকা কৃষিঋণ প্রদান করা হয়েছিলো। তিনি দীর্ঘদিন কিস্তির টাকা না দেওয়ায় আমরা তাকে চাপ দিচ্ছিলাম। গরুগুলো জিম্মাদার আব্দুল আউয়াল বিক্রি করেছে। এ ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না আর গরু বিক্রি করার পর তিনি আমাদের কোন টাকা পয়সা দেননি।