১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১১:৪০
শিরোনাম:

গজারিয়ায় চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু; থানায় ১২ ঘণ্টা লাশ রেখে ৪ লক্ষ টাকায় রফা!

গজারিয়া ( মুন্সীগঞ্জ)  প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মিয়াজী টি.এইচ. মেমোরিয়াল হাসপাতাল নামে বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় সিজারিয়ান অপারেশনে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের লাশ ১২ ঘণ্টা থানায় সামনে রেখে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে মাত্র চার লক্ষ টাকায় বিষয়টি রফাদফা করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মারা যাওয়া ঐ প্রসূতির নাম নিপা আক্তার (২৬)। সে ভবেরচর এলাকার মো.শামীমের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
নিহতের স্বজনরা জানায়, শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে তাকে ভবেরচর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন মিয়াজী টি.এইচ. মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে ডা. রাজিয়া বেগমের তত্ত্বাবধানে প্রসূতি নিপার সিজারিয়ান অপারেশন শুরু হয়। অপারেশন শুরুর ১০-১৫ মিনিট পরে তাদের জানানো হয় মেয়ে বাচ্চা হয়েছে, বাচ্চার অবস্থা ভালো। কিন্তু দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পরও নিপাকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের না করায় তাদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পরে তাদের জানানো হয় বাচ্চার মায়ের অবস্থা খারাপ তাকে ঢাকা নিয়ে যেতে হবে। এসময় নিপার নিথর দেহ তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তারা তড়িঘড়ি করে তাকে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার প্রো-একটিভ মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। সেখান তাদের জানানো হয় অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের কারণে অনেক আগেই নিপার মৃত্যু হয়েছে।
প্রসূতির মৃত্যুর খবরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও রোগীর স্বজনরা শনিবার ( ১ ডিসেম্বর)  রাত নয়টার দিকে হাসপাতালটিতে অবস্থান নিয়ে কর্মরত স্টাফদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং নিহতের লাশ গজারিয়া থানায় নিয়ে যায়।
বিষয়টি সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে ডাঃ রাজিয়া বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ রোগীর আগ থেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ছিল আমি অপারেশন করার পরে বিষয়টি ধরতে পেরেছি। আমি তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠিয়ে দিতে বলেছিলাম। এখানে আমার কোন অবহেলা ছিল না’।
এদিকে ঘটনার পর নিহতের লাশ থানার সামনে রেখে স্বজনদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করাকে বিষয়ে রাতভর নানা নাটকীয়তার তৈরি হয়। বিভিন্ন সূত্রের খবর মারা যাওয়া প্রসূতির স্বজনরা থানায় অভিযোগ করতে চাইলেও প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে পড়ে ঘটনার ১২ ঘন্টা পর শনিবার ( ২ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টার দিকে বিষয়টি সমঝোতার ভিত্তিতে মীমাংসা করতে বাধ্য হন তারা। মাত্র ৪ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, ‘ ভুক্তভোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেনি। তারা লাশ নিয়ে চলে গেছে। এ ব্যাপারে তারা অভিযোগ না করলে আমাদের বিশেষ কিছু করার নাই তারপরও আমি বিষয়টি দেখছি’।
উল্লেখ্য, হাসপাতাল পরিচালনায় অব্যবস্থাপনা, ডাক্তারের বদলে নার্স দিয়ে অপারেশন করা, রোগীদের সাথে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এর আগেও ২০২০সালের ১৯ জুলাই এই হাসপাতালে ডাক্তারের বদলে নার্স দিয়ে অপারেশন করার কারণে পুরান বাউশিয়া গ্রামের ইউসুফ আলীর সন্তান সম্ভবা স্ত্রী খাদিজা আক্তার (৩০)এর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সে সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হাসপাতালটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।